নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার লাকসামে আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার আদেশের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চাকমার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সালেপুর মধ্যপাড়ায় এক্সকাভেটর দিয়ে একটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পক্ষের। তাদের দাবি, অভিযানে ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মালামালসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শরীফ হোসেনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে কুমিল্লার সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-১৯০/২০২৬ বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার আদালত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শরীফ হোসেনের স্ত্রী কুলসুম আক্তার কেয়া বলেন, ‘আমরা এসিল্যান্ডকে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের বিষয়ে জানিয়েছি। এরপরও আমাদের স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ভবনের ছাদ, দেয়াল ও সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এ সময় ভাঙা ইট, কংক্রিট, টিনসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। উচ্ছেদ কার্যক্রম দেখতে স্থানীয় লোকজনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, অভিযানে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভবন, স্থাপনা ও মালামাল মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা জিপি অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ বলেন, ‘সকালে আমি এসি ল্যান্ডকে মোবাইল ফোনে উচ্ছেদ অভিযান না চালানোর অনুরোধ করেছিলাম এবং আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলার কথা বলেছিলাম। এরপরও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পক্ষ আদালতের কাছে প্রতিকার চাইতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চাকমা বলেন, ‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলাম। পরে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ পাওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দিই।’
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়ে থাকলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হবে। একই সঙ্গে তারা ঘটনার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং আইনানুগ প্রতিকার দাবি করেছেন।