Featured

Type Here to Get Search Results !

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান অ্যাডভোকেট সুজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সেইভ দ্যা হিউমিনিটি'র চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মু. বদিউল আলম সুজন। 

একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের বন্যার্তদের সহায়তায় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় না দেখার আহ্বান তিনি। বন্যার্তদের নিয়ে কাজ করা প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের উদ্দেশ্যে এই আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জসহ বন্যা কবলিত মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, সাময়িক বাসস্থান, ঔষধের সহায়তা দিন।

কুমিল্লাসহ বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ  ও সহায়তা কারীদের  উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাব যে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশে মানুষে মানুষে হিংসা-বিরোধী-বিভেদ তৈরি করেছিল। কিন্তু আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ- মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আপনারা দয়া করে কারও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন না। একই সঙ্গে আপনারা ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সরকার ও প্রশাসন আপনাদের কাছে কোনো সহযোগিতা চাইলে দয়া করে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন।

অ্যাডভোকেট সুজন বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই, যার যার সাধ্যমতো বিপদগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসি আল্লাহর রহমতে অবশ্যই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম হবো।

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই আকস্মিক বন্যায় কুমিল্লাসহ দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পূর্বাঞ্চলে জেলার পর জেলা প্লাবিত হওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। জীবন ও যানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে জীবন গেছে কয়েকজন মানুষের। ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

দেশের এই আকস্মিক বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করেন এড.বদিউল আলম সুজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই বন্যা দেশের অভ্যন্তরে উদ্ভূত কোনো কারণে নয়। বন্যা কবলিত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও সেটি পূর্বাঞ্চলের বন্যার মূলকারণ নয়। বরং এবারের বন্যার মূল কারণ উজানের দেশ প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা। হঠাৎ করে বাঁধ খুলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবিয়ে দিলেও একটি বারের জন্যও বাংলাদেশকে আগাম কোনো সতর্কতা দেয়নি তারা। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসিয়ে নিলেও বন্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সামন্যটুকু প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি।

বন্যা কবলিত এলাকার লাখ লাখ মা মানুষ এখন সহায়-সম্বল হারিয়ে নিদারুণ অসহায় উল্লেখ করে বদিউল আলম সুজন বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করে এখন সময় ক্ষেপণেরও সময় নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, বন্যাকবলিত মানুষের জীবন সম্পদ রক্ষা করাই এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের বন্যা পরিস্থিতিতে আমি সারা দেশে বিশেষ করে যেসব এলাকা এখনো আক্রান্ত হয়নি, সেসব এলাকার জামায়াত  এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, আপনারা সমন্বিতভাবে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। তাদের নিরাপত্তায় পাশে দাঁড়ান। আল্লাহর রহমতে আমরা এই দুর্যোগ থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবো, ইনশাআল্লাহ।

Top Post Ad

আলমাছ ষ্টীল এন্ড স্টান্ডার্ড ফার্ণিচার