Featured

Type Here to Get Search Results !

লাকসামে ৩১ কোটি টাকার গবাদিপশু ও গোখাদ্য বিনষ্ট: খামারিদের পাশে প্রাণিসম্পদ দপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার লাকসামে বন্যায় গরু ছাগল ও হাঁস মুরগির খামারের প্রায় ৩০ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে। বন্যায় উপজেলার ৭৪০টি গরু-ছাগলের খামার ও ৪৯৩টি মুরগির খামারের প্রায় ৯০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব খামারীরা ক্ষতি পুষিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা কামনা করছেন।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭৪০টি গরু-ছাগলের খামার ও ৪৯৩টি মুরগির খামারের প্রায় ৯০ ভাগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ছয় লাখ মুরগির মৃত্যু হয়। এছাড়াও প্রায় তিন হাজার হাঁস, গরু ছাগল ও ভেড়ার মৃত্যু হয়। বিনষ্ট হয় বিপুল পরিমাণ গোখাদ্য। মৃত পশু পাখি ও খাদ্যের বাজার মূল্য প্রায় ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

বন্যায় আক্রান্ত খামারের গরু ছাগল নিয়ে অনেকেই ঠাঁই নেন রাস্তার পাশে, স্কুল ঘরে কিংবা উঁচু জায়গায়। বন্যার পানি কমতে থাকায় অনেকেই ফিরে আসছেন খামারে। পৌরসভাসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম করে বন্যায় আক্রান্ত গবাদি পশু ও হাঁস মুরগির চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।

মুরগির খামারী সোহেল রানা সোহাগ বলেন, বন্যায় আমাদের ৪৮ খামারের প্রায় সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লেয়ার ও ব্রয়লার খামারের প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মুরগি মারা গেছে। এতে অন্ততঃ সাড়ে ৪ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ব্যাংক লোন ও ধারদেনা করে খামারগুলো করেছিলাম। এখন পথে বসার অবস্থা। একটু সহযোগিতা পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের মধ্যে খোকন চন্দ্র পোদ্দার জানান, তার ১৫ হাজার মুরগি মারা গেছে। তিনি বলেন ডাক্তার রকিবুল হাসানকে আমরা সব সময় আমাদের পাশে পাই। তার প্রতি আমাদের প্রত্যাশা তিনি পুনরায় আমাদের খামার পরিচালনার পথ দেখাবেন। 

শতাধিক গরু নিয়ে গড়ে ওঠা এসএফ ডেইরি খামারের মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, বন্যায় আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে চিকিৎসা পাচ্ছি। কিন্তু খাবারের প্রচুর সংকট। ঘাস, খড়, দানাদার খাবার সব নষ্ট হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে সরকারি প্রণোদনা আমাদের খুবই প্রয়োজন। 

লাকসাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ একেএম রকিবুল হাসান জানান, বন্যার শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের পাশে রয়েছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম করে বন্যায় আক্রান্ত গবাদি পশু ও হাঁস মুরগির চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। 


প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি সংস্থা এবং গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় উপজেলার প্রায় ৫০০ খামারীর মাঝে গো খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা, ওষুধ বিতরণ, ঘাসের কাটিং বিতরণসহ খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আরো কিছু সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর থেকে আরও ৫০০ খামারীকে গোখাদ্য বিতরণ করা যাবে। 

তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ তালিকা কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে যাতে ভবিষ্যতে এসব খামারি পুনরায় নতুন করে খামার পরিচালনা করতে পারেন। 

তিনি বলেন, লাকসামের ৭৬ হাজার পরিবারের প্রায় ৯০% পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়েছে। এখানে ৬ লাখ মুরগির মৃত্যুসহ খাদ্য নষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, এই ক্ষতির পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তিনি সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ সকলকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Top Post Ad

আলমাছ ষ্টীল এন্ড স্টান্ডার্ড ফার্ণিচার