নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সালেহ আহমেদ (৬২) এবং ব্রুনাই প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন নয়ন (৩৫)। নিহত দু’জন সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা। সালেহ আহমেদ ওই গ্রামের মরহুম সালামত উল্লাহর ছেলে এবং দেলোয়ার হোসেন নয়ন একই গ্রামের আবুল খায়ের ছুট্টু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষের হামলায় সালেহ আহমেদ ও দেলোয়ার হোসেন নয়ন গুলিবিদ্ধ হন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ সংঘর্ষে আহতদের নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে নিহত দেলোয়ার হোসেন নয়নের ভাগিনা রিয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে আলিয়ারা গ্রাম কার্যত মানবশূন্য রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ২৫ জুলাই অন্যের জমিতে গরু ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপ ও সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। ওই বিরোধের জেরে কয়েক দফা সংঘর্ষ, বহু মানুষ আহত হওয়া এবং প্রায় অর্ধশত বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত বছরের ৩ আগস্ট আলাউদ্দিন মেম্বারকে অপহরণ করে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনার পর সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপ দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তারা এলাকায় ফিরে নিজ বাড়িতে তাবু টানিয়ে বসবাস শুরু করলে পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
নিহত দেলোয়ার হোসেন নয়নের বড় বোন হাজেরা আক্তার রিংকি ও ছেলে ফয়সাল আহমেদ জয় অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বাড়িঘর আগেই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালে আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে রাজিমসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে তিন শতাধিক সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়।”
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দা ফারহানা ইসলাম বলেন, “গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দু’জন মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে গুলিবিদ্ধ এবং হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।”
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।”







.jpg)


