নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে দীর্ঘদিনের যানজট, সড়ক বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। বর্তমানে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশাকে নিবন্ধনের মাধ্যমে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই এ নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে কুসিক প্রশাসন।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিশিষ্ট নগর ও পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব নগর পরিকল্পনা ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি মডেল রুটের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
সভায় প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লা নগরীর সড়কগুলোতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। একই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রী ওঠানামার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই অটোরিকশার সংখ্যা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নিবন্ধিত প্রতিটি অটোরিকশায় বিশেষ প্রযুক্তিসমৃদ্ধ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে। চীন থেকে আমদানি করা এসব প্লেটে অন্তত আটটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে, যা সহজে নকল করা সম্ভব হবে না। এর মাধ্যমে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অটোরিকশা সহজেই শনাক্ত করা যাবে।
প্রশাসক আরও বলেন, কেউ যদি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে অটোরিকশা পরিচালনা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে যানবাহন জব্দসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুসিক সূত্র জানায়, নিবন্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে চালক ও মালিকদের একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। এতে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাজ সহজ হবে।
সভায় স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, একটি আধুনিক নগর গড়ে তুলতে শুধু সড়ক সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিকল্পিত যানবাহন ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত রুট, কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সচেতনতা। তিনি কুমিল্লাকে একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে, একই দিন বিকেলে কুসিকের সার্বিক কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত আরেকটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নগরবাসীকে উন্নত নাগরিক সেবা দিতে হলে সড়ক, যানবাহন ও নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় কুসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নগরীর টেকসই উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কুসিকের নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা নগরীতে যানজট কমবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।






.jpg)


