নিজস্ব সংবাদদাতা: কুমিল্লার দেবিদ্বারে ছাব্বির হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি মুকবুল হোসেন মুকুলকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টায় অভিযান চালিয়ে গুনাইঘর (উঃ) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মো. মুকবল হোসেন হোসেন মুকুল (৪৫) উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের মৃতঃ ইসমাইল হোসেন সরকারের ছেলে এবং ৯নং গুনাইঘর (উঃ) ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক ছিলেন।
তিনি দেবিদ্বারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আমিনুল ইসলাম সাব্বির হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দেবিদ্বার থানা ঘেরাও ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এতে সাব্বিরও যোগ দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে লক্ষ্য করে পুলিশ ও দুস্কৃতিকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে সাব্বিরের মাথায় দুটি গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান দীর্ঘ ৩৫ দিন চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তাকে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিন ভিংলাবাড়ি গ্রামে নানাবাড়িতে আনা হয়। বাড়ি আসার তিন দিন পর শরীরে ব্যথার কথা বলেন সাব্বির। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান তিনি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩৯ দিন পর ছাব্বির হোসেন (১৯) নানার বাড়িতে মৃত্যু হয়।
সাব্বিরের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে ছোট্ট দুই ভাইবোন নিয়ে থাকতেন দেবীদ্বার পৌর দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি এলাকায় নানার বাড়িতে। পাশের মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন সাব্বির। পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে চালাতেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
সাব্বিরের মা রিনা আক্তার বলেন, ‘ আজ থেকে ৪ বছর আগে সাব্বিরের বাবার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে সাব্বির পড়ালেখার পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতো। সরকার পতনের দাবিতে প্রতিদিনই সে আন্দোলনে যেত। কোনোভাবেই তাকে ঘরে আটকে রাখতে পারিনি। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সাব্বিরকে হত্যাচেষ্টায় ৯৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন তার মামা নাজমুল হক। ওই মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। গ্রেফতার হওয়া মুকবুল হোসেন মুকুল চেয়ারম্যান সাব্বির, রুবেল হত্যা ও আবুবকর হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত সবকটি মামলার এজহারভুক্ত আসামি।







.jpg)


